Beauty Hair Care

অভিজাত কার্লি

অভিজাত কার্লি

                     পুরনো কেতা, কিন্তু এখনো এর কদর কমেনি। বরং বেড়েছে। দৃষ্টি আকর্ষক এই স্টাইলটি যে কারো লুকে যোগ করবে অনন্য আভিজাত্য

চুল চর্চায় কোঁকড়ানো চুলের কদর প্রাচীনই বলা চলে। তবে এখন পর্যন্ত এর আবেদন কমেনি এতটুকু। একটা সময় নারী সৌন্দর্যের একটি উল্লেখযোগ্য মাপকাঠি ছিলো এই কোঁকড়ানো বা ঢেউখেলানো চুল। আজকের দিনের রানওয়ে দাপিয়ে বেড়ানো নামকরা মডেল আর অভিনেত্রীদের কার্লি হেয়ারস্টাইল মনে করিয়ে দেয় ভেনাসের সেই অনিন্দ্যসুন্দর কোঁকড়া চুলের ছবি। হ্যা বত্তিচেল্লির আঁকা দ্য বার্থ অব ভেনাস’- এর কোঁকড়ানো লম্বা চুলের কথাই হচ্ছে। রেনেসাঁসের সময় এই ভেনাসের চুলই ছিলো সবচেয়ে স্টাইলিশ চুলের উদাহরণ।

প্রাকৃতিকভাবেই অনেকের চুল কোঁকড়ানো। কিন্তু যাদের এমনটা নয় তাদের এই হেয়ারস্টাইলের জন্য কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয়। চুল কার্ল করে নেয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। একটি আকর্ষনীয় কার্লি লুক তৈরির নানান নীরিক্ষা স্টাইলটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চলছে। এটি এতটাই জনপ্রিয় যে চুলে কার্ল করে নেয়ার বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নিত্য নতুন উদ্ভাবন হয়েই চলেছে। এখন কার্লি হেয়ার প্রেমীদের জন্য যখন তখন এই স্টাইল করিয়ে নেয়া কোনো ব্যপারই নয়। অথচ মজার ব্যপার হলো বিশ শতকে এই ফ্যাশনেবল হেয়ারস্টাইলটি ছিলো শুধু অভিজাতদের মধ্যে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ। আর এখন? রোলার কিংবা হট কার্লিং আয়রণ সাধারণ গৃহিনী থেকে শুরু করে লাল গালিচায় হাঁটা সেলিব্রিটি সবাই ব্যবহার করেন।

প্রাচীন ব্যবিলনীয়রা আভিজাত্য প্রকাশে তাদের লম্বা চুল কার্ল করে নিত। নারীদের পছন্দের একটি স্টাইল ছিলো  অর্ধচন্দ্রাকারে তারের ফ্রেম দিয়ে চুল বেঁধে তা কার্ল করে নেয়া। এর প্রচলন এখনো রয়েছে। আরেকটি জনপ্রিয় স্টাইল ছিলো গ্রিক নটে চুল বেঁধে মুখের উপর অল্প কিছু কোঁকড়ানো চুল ফেলে রাখা। স্টাইলটি ফরাসি বিপ্লবের সময় সবচেয়ে পছন্দের হেয়ারস্টাইল ছিলো। পুরনো কিন্তু নান্দনিক এই হেয়ারস্টাইল এখনো যে কোন ফ্যাশন ইভেন্ট থেকে শুরু করে সাধারণের মধ্যে ব্যপকভাবে দেখা যায়।

এখনো কার্লি হেয়ারে হয়ে ওঠা যায় অনন্যসাধারন। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠার, ফ্যাশন ইভেন্ট, কিংবা সিনেমা- যা-ই হোক না কেন ক্ল্যাসিক এই হেয়ারস্টাইল যে কাউকে নতুনভাবে হাজির করে। আর সেই কারণেই ফ্যাশন উইকগুলোতে করা হয় বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টাল কার্লি হেয়ার। ফলে এতে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। আর এই সিজনের হট ট্রেন্ড তো ভলিউমনাইজড ওয়েভি হেয়ার।

লম্বা বা ছোট সাইজ যাই হোক না কেন কার্লি চুলে আকর্ষনীয় সব স্টাইল করে নেয়া যায় সহজেই। প্রাকৃতিকভাবে হলেতো কথাই নেই তবে যাদের সোজা চুল কিন্তু কার্লি হেয়ারস্টাইল করে নিতে চান তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কার্লিং আয়রন ও পদ্ধতি। এছাড়া যাদের চুল এমনিতেই কোঁকড়ানো তাদের সবার চুলের ধরন একরকম নয়। যেমন কারো চুল শিথিল কোঁকড়ানো আবার কারো খুব ঘন। কারোটা আবার এই দুয়ের মাঝামাঝি। চুলের ধরন ও মুখের গড়নের উপর নির্ভর করে কিভাবে চুলে সিঁথি করবেন বা বাঁধবেন। লুকে ভিন্নতা তৈরিতে যেভাবে সিঁথি করলে মুখের গড়নের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায় তা করে নিয়ে চুল চেড়ে দিতে পারেন বা পছন্দের কোনো স্টাইলে বেঁধে নিতে পারেন।

আর রোম্যান্টিক কার্লি হেয়ারস্টাইল এমন একটি ট্রেন্ড যা কখনো পুরনো হয়না। শুধু দেখে নিন পোশাক ও আপনার সঙ্গে কতটুকু মানিয়ে যাচ্ছে। আর প্রত্যেক সিজনেই যেহেতু ট্রেন্ডি হেয়ারস্টাইলগুলোর বদল ঘটছে তাই সঠিকটি বেছে নেয়া অনেক সহজ। কার্লি বব বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও লম্বা চুলে কর্লি ট্রেন্ড বহুল প্রচলিত। তাই বেশিরভাগ ব্র্যান্ডই কাঁধ পর্যন্ত বা তার থেকে বেশি লম্বা চুল বেছে নেন কার্লি স্টাইল তৈরির জন্য। রানওয়ের হেয়ারস্টাইলে চমক তৈরির সহজ ও জনপ্রিয় উপায় চুল কার্ল করে নেয়া।

                আর ক্রিশ্চিয়ান দিওর  এই কাজটি করতে গিয়ে রেট্রো কার্লের সঙ্গে একটু অগোছালো ভাব এনেছে আরো আধুনিক লুকের জন্য। যদিও মসৃণ সোজা চুলের কদর সবসময়ই একটু বেশি কিন্তু চুলে ভলিউম তৈরিতে এবং লুকে কোমলভাব ফুটিয়ে তুলতে কার্লি হেয়ারস্টাইল যে আদর্শ তার প্রমান মেলে অস্কার দে লা রেন্তা কিংবা ইসাবেল ম্যারাঁটের দিকে তাকালেই।

সুতরাং যারা প্রকৃতিপ্রদত্ত কোঁকড়ানো চুল নিয়ে বিরক্ত কিংবা ভেবে পাচ্ছেন না কোন হেয়ারস্টাইল করে নেবেন তারা এবার সব ভাবনা ঝেড়ে ফেলে ট্রেন্ডি এই চুলে হয়ে উঠুন অনবদ্য। স্কিলফুল রেট্রো থেকে শুরু করে ট্রেন্ডি যে সময়টাই ধরুন না কেন অভিজাত এই হেয়ারস্টাইলটি আপনাকে করে তুলবে আধুনিক ও সমকালীন।

              এবার আসা যাক বিশেষ এই চুলের পরিচর্যায়। আকর্ষনীয় হেয়ারস্টাইলের ভিত্তি হলো পরিষ্কার ও স্বাস্খ্যোজ্জ্বল চুল। কোঁকড়ানো চুল অন্যান্য চুলের তুলনায় একটু বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই এর প্রয়োজন হয় আলাদা যত্নের। কোঁকড়ানো চুলে কখনো ব্রাশ ব্যবহার করবেন না। এই চুলের জন্য বড় দাঁড়ার চিরুনী বেশ উপযোগী।

চেষ্টা করুন চুল সবসময় ময়শ্চার রাখার। মনে রাখতে হবে যে কোঁকড়ানো চুল ভঙ্গুর ও শুষ্ক হয় তাই ক্যামিকেল মুক্ত বা কম  ক্যামিকেল যুক্ত পণ্য ব্যবহার করাই ভালো। কেননা এতে চুল আরো শুষ্ক হয়ে ভেঙ্গে যেতে পারে। ব্যবহার করুন কেরাটিন সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার। কার্লি চুলে কেরাটিনের অভাব থাকায় এতে খুব সহজেই জট পাকিয়ে যায়। যা সোজা চুলে বিদ্ধমান থাকায় তা জট মুক্ত থাকে। জটমুক্ত থাকতে ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়তে বেছে নিন কোঁকড়ানো চুলের উপযোগী বিশেষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার।

শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের মোড়কে দেখে নিন কেরাটিন এর শীর্ষ উপাদান কি-না। ময়শ্চারাইজিং কন্ডিশনার এক্ষেত্রে ভালো কাজ দেবে। সপ্তাহে একবার ডিপ ময়শ্চারাইজিং নিশ্চিত করুন। পরিষ্কার, জটমুক্ত ও ময়শ্চার চুলে এবার যেকোন স্টাইলে হয়ে উঠুন দৃষ্টি আকর্ষক।

Ahmed Bubli

Ahmed Bubli

About Author

Believing that a good life is built on balance, this individual is dedicated to helping others discover what truly brings them happiness. Whether you're a busy parent, a driven professional, or a dedicated student, their insights aim to support you in living your best life.

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

Beauty Makeup & Tips

অসহনীয় গরমে দেখাবে উজ্জ্বল আর দীপ্তিময় জমকালো কোনো সাজ ছাড়াই

বলা হয় সামার উৎফুল্লতায় পরিপূর্ণ- কিন্তু গলে যাওয়া মেকআপ, লেপ্টে যাওয়া আইলাইনার আর সুপার-স্টিকি লিপস্টিক এই প্রাণবন্ত সময়টাকে বিগড়ে দিতে
Beauty Makeup & Tips

বোল্ড মেকওভার

কেবল বাইরেই রঙের ছটা নয়, যা বের করে আনবে ভেতরের রঙিন অনুভূতিকেও। কিংবা এমন মেকআপ যা আপনার মনমরা মনোভাবকে করে